logo
ads

পূবাইলে রাতের আঁধারে চা দোকানে মসজিদ কমিটি গঠন; থানায় অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশকাল: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৮ পি.এম
পূবাইলে রাতের আঁধারে চা দোকানে মসজিদ কমিটি গঠন; থানায় অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

ধর্মীয় পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র বিতর্কে উত্তাল গাজীপুরের পূবাইল বাজার। রাতের আঁধারে চা দোকানে বসে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুসল্লি ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে শনিবার পূবাইল বাজারের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বাদী হয়ে কয়েকজন বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে পূবাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার এশার নামাজের পর বাজার সংলগ্ন বালু নদীর পাড়ের একটি চা দোকানে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে পূবাইল বাজার জামে মসজিদের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একইদিন জুমার নামাজে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—বুধবার জোহরের পর উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে মুসল্লিদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু সেই ঘোষণা উপেক্ষা করে গোপনে কমিটি গঠনের ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।


ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতেই বাজার সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মুসল্লি ও ব্যবসায়ীরা। ‘গোপন কমিটি মানি না’, ‘মসজিদে স্বচ্ছতা চাই’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। একজন মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মসজিদ আল্লাহর ঘর—এখানে গোপনে কমিটি করা মানে মুসল্লিদের অপমান করা।"ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, "আমাদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে চা দোকানে কমিটি গঠন করা হয়েছে—এটা সরাসরি প্রতারণা।" দোকানি আল আমিন প্রশ্ন তোলেন, "মসজিদের সিদ্ধান্ত যদি চায়ের টেবিলে হয়, তাহলে মসজিদের মর্যাদা কোথায়?"

স্থানীয়দের অভিযোগ, নবগঠিত কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় পূবাইল থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অস্থায়ী কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। পরে উত্তেজনার মুখে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ও যুবদল নেতা পনির হোসেনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একতরফা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে।


বিএনপির স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, "এ ধরনের গোপন সিদ্ধান্ত দল সমর্থন করে না। কেউ দলের নাম ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"এদিকে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গঠিত কমিটির পক্ষে দোকানে দোকানে ঘুরে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। পূবাইল থানার একটি সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সচেতন মহল মনে করছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে গোপনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেছেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে সর্বসম্মতিক্রমে একটি মসজিদ কমিটি যাতে উপহার দেওয়া যায় সেদিকে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।বর্তমানে পূবাইল বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছে—মসজিদের মর্যাদা ও জনআস্থার প্রশ্নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন সবার নজরে।

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ